মলদ্বারের বাইরে মাংস বৃদ্ধি পেলে করণীয়

মলদ্বারের নানা সমস্যা আমাদের সহজেই উদ্বিগ্ন করে তোলে। মলদ্বারের বাইরে মাংস বৃদ্ধি এমনি একটি পীড়াদায়ক সমস্যা। লোক-লজ্জার ভয়ে অনেকে প্রকাশ না করলেও অধিকাংশ মানুষ এই রোগে হয়তো ভুগছেন। এটি আমাদের স্বাভাবিক কর্মকান্ডে দারুনভাবে প্রভাব ফেলছে, যা আমাদের জন্য বেশ দুশ্চিন্তার কারণ। মলদ্বারে মাংস বৃদ্ধি অনেক কারণেই হতে পারে, পায়ুপথের সঠিক যত্নের অভাব, অসচেতনতা, এছাড়া বিভিন্ন রোগের উপসর্গও হতে পারে। যেমন, হেমোরয়েডস, স্কিন ট্যাগ, অ্যানাল ওয়ার্টস বা অন্যান্য স্বাস্থ্যগত রোগের লক্ষণ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি গুরুতর না হলেও, ব্যথা, চুলকানি বা রক্তপাতের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। সঠিক পরিচর্যা ও চিকিৎসা গ্রহণ করলে সমস্যাটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

মলদ্বারের বাইরে মাংস বৃদ্ধি পেলে করণীয়

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ ও প্রয়োজন হলে ওষুধ ব্যবহার হতে পারে বেশ উপকারী । তবে, দীর্ঘস্থায়ী বা গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সময়মতো সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব, বলছেন বিশিষ্ট কোলোরেক্টাল সার্জন ডা. তারিক আখতার খান। তার কার্যকারী টিপস পেতে পুরো ব্লগটি পড়ুন।

মলদ্বারে মাংস বৃদ্ধির লক্ষণ

মলদ্বারের আশেপাশে মাংস বৃদ্ধি পেলে, স্বাভাবিকভাবে যে লক্ষণ দেখা দিতে পারে, তা আমাদের জানা অত্যন্ত জরুরি। এখানে আমরা বেশ কিছু লক্ষণ নিয়ে আলোচনা করবো। লক্ষণগুলো হলো:

মলদ্বারে মাংস বৃদ্ধির লক্ষণ

হেমোরয়েডস (অর্শরোগ)

এটি মূলত পাইলস নামেই অধিক পরিচিত, যেখানে মলদ্বারের শিরা ফুলে গিয়ে নিচের দিকে নেমে আসে। এই পরিস্থিতির কারণে মলদ্বারে মাংস বৃদ্ধি অনুভুত হতে পারে। সাধারণত কোষ্ঠকাঠিন্য, গর্ভাবস্থা বা দীর্ঘ সময় বসে থাকাও একটি গুরুতর কারণ।

অ্যানাল ফিশার

মলদ্বারে মাংস বৃদ্ধির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে, অ্যানাল ফিশার। যেটা মূলত হয়ে থেকে পায়ুপথে কোনো ইনজুরি বা শক্ত মল নির্গমনের সময় যদি ছিড়ে যায়, তখন জায়গাটি ভাজ পড়ে গিয়ে বা ফুলে গিয়ে, মাংস বৃদ্ধি অনুভূত হতে পারে।

৩. অ্যানাল স্কিন ট্যাগ

অ্যানাল স্কিন ট্যাগ হতে পারে মলদ্বারের চারপাশে মাংস বৃদ্ধির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। পায়ুপথে ঘর্ষণ বা দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহের কারণেও হতে পারে।

৪. অ্যানাল ওয়ার্টস (HPV ওয়ার্টস)

হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (HPV), যা মানুষের পায়ুপথে ছোট ছোট মাংসপিণ্ড তৈরি করে থাকে। এটি মূলত যৌন সংস্পর্শ বা ত্বকের সংস্পর্শে আমাদের আক্রান্ত করতে পারে। এই ভাইরাসের আক্রমনও মলদ্বারের মাংস বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

পেরিয়ানাল অ্যাবসেস বা ফিস্টুলা

পায়ুপথে অ্যাবসেস বা ফোড়ার কারনেও মাংস বৃদ্ধি অনুভুত হতে পারে। এটি একটি পুঁজভর্তি ফোলা অংশ, যা মলদ্বারের গ্রন্থির সংক্রমণের ফলে হয়। যাকে পরবর্তীতে আমরা অ্যাানাল ফিস্টুলা হিসেবে নির্ণয় করে থাকি।

অ্যানাল পলিপ

মলদ্বার বা রেক্টামের ভেতরে টিস্যুগুলোর অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলে অ্যানাল পলিপ সৃষ্টি হয়। এগুলোও মাংস বৃদ্ধির একটু গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। ক্যন্সার কোষের উপস্থিতির আশংকা থাকায় দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

অ্যানাল ক্যান্সার

কিছু ক্ষেত্রে অ্যানাল ক্যান্সার এর একটি উপসর্গ হতে পারে মলদ্বারে মাংস বৃদ্ধি। যা ধীরে ধীরে গুরুতর সমস্যা তৈরি করতে পারে। সাধারণত এটি একটি ফুলা অংশ, ক্ষত বা দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার মাধ্যমে প্রকাশ পায়।

মলদ্বারে মাংস বৃদ্ধি পেলে করণীয়

মলদ্বারে মাংস বৃদ্ধি পেলে ঘাবড়ে না গিয়ে বেশ কিছু নিয়ম মেনে চলতে পারেন। যা আপনার পরিস্থিতির অবনতি থেকে রক্ষা করবে। এখানে গুরুত্বপূর্ণ কিছু করণীয় উল্লেখ করা হলো:

  • লক্ষণগুলো পর্যবেক্ষণ করুন: প্রথমে লক্ষণগুলো নিয়ে ভালোভাবে পর্যবেক্ষন করুন। ব্যথা, রক্তপাত, চুলকানি পরিস্থিতি কতটুকু গুরুতর সেটা খেয়াল করুন, অবস্থার অবনতি হলে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
  • স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখুন: অপরিচ্ছন্ন পায়ুপথ পরিস্থিতিতি আরো খারাপের দিকে নিয়ে যেতে পারে। পায়ুপথের জ্বালা-পোড়া প্রতিরোধের জন্য সাস্থ্যবিধি মেনে জায়গাটি পরিষ্কার এবং শুষ্ক রাখুন।
  • চাপ দেওয়া এড়িয়ে চলুন: মলদ্বারে মাংস বৃদ্ধি পেলে, কখনোই কোষ্ঠকাঠিন্য হতে দেওয়া যাবে না। কারণ এর ফলে মলত্যাগের সময় অধিক চাপ দিতে হয়, যা অবস্থার অবনতি ঘটাতে সাহায্য করে। এজন্য প্রয়োজন সঠিক ডায়েট প্ল্যান এবং ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার ও প্রচুর পানি পান।
  • ঘরোয়া প্রতিকার চেষ্টা করুন: মলদ্বারের মাংস বৃদ্ধি থেকে ঘরোয়াভাবে মুক্তি পেতে নিয়মিত শরীর চর্চা, লাইফস্টাইলের পরিবর্তন এবং সঠিক ডায়েট প্ল্যান করতে পারেন।
  • চিকিৎসা পরামর্শ নিন: তবে ঘরোয়া পদ্ধতিতে যদি কাজ না হয় এবং পরিস্থিতি আরোও খারাপের দিকে যায় তাহলে দ্রুত এখন কোলোরেক্টাল সার্জনের সাথে পরামর্শ করুন।

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন

যদি আপনি তীব্র ব্যথা, ভারী রক্তপাত, হঠাৎ অন্ত্রের পরিবর্তন, অথবা অব্যক্ত ওজন হ্রাস অনুভব করেন তবে অবিলম্বে একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।

  • তীব্র ব্যথা বা ফোলাভাব
  • ক্রমাগত বা ভারী রক্তপাত
  • মলত্যাগের অভ্যাসে হঠাৎ পরিবর্তন
  • দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া পিণ্ড
  • অব্যাখ্যাযোগ্য ওজন হ্রাস বা ক্লান্তি

একজন বিশেষজ্ঞ কোলোরেক্টাল সার্জনের পরামর্শ নিন

আপনি যদি মলদ্বার ও কোলোরেক্টাল সমস্যার জন্য একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক খুঁজে থাকেন, তাহলে ডা. তারিক আখতার খান এর পরামর্শ নিন। তিনি একজন বিশেষজ্ঞ কোলোরেক্টাল সার্জন, আধুনিক চিকিৎসা ও উন্নত সার্জারি পরিচালনায় দক্ষ। মলদ্বারের মাংস বৃদ্ধি, পাইলস, ফিস্টুলা বা অন্যান্য জটিল সমস্যার কার্যকর সমাধানের জন্য তিনি নির্ভরযোগ্য পরামর্শ ও চিকিৎসা প্রদান করেন। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে তিনি রোগীদের আরামদায়ক ও স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করেন। দেরি না করে আজই বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নিন এবং সুস্থ জীবন উপভোগ করুন।

যোগাযোগ করুনMain Button Arrow Icon

সম্পর্কিত প্রশ্ন

মলদ্বারের আশেপাশে মাংস বৃদ্ধি হওয়ার সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে হেমোরয়েডস (অর্শরোগ), অ্যানাল স্কিন ট্যাগ, অ্যানাল ওয়ার্টস (এইচপিভি সংক্রমণ), পেরিয়ানাল অ্যাবসেস বা ফিস্টুলা এবং অ্যানাল পলিপ অন্তর্ভুক্ত। কিছু ক্ষেত্রে এটি অ্যানাল ক্যান্সারের লক্ষণও হতে পারে, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

যদি মাংস বৃদ্ধি ব্যথাযুক্ত হয়, রক্তপাত হয়, দ্রুত আকার পরিবর্তন করে, চুলকানি বা প্রদাহ দেখা দেয়, অথবা দীর্ঘদিনেও সারে না—তাহলে দেরি না করে কোলোরেক্টাল সার্জনের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

চিকিৎসা নির্ভর করে সমস্যার ধরন ও তীব্রতার ওপর। হেমোরয়েডসের জন্য ওষুধ, লাইগেশন বা লেজার থেরাপি ব্যবহার করা হয়। স্কিন ট্যাগ বা ওয়ার্টস থাকলে ক্রায়োথেরাপি বা ছোট অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়। গুরুতর ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে, যা একজন বিশেষজ্ঞ কোলোরেক্টাল সার্জনের মাধ্যমে করানো উত্তম।
Call Receptionist
Call for Appointment
Make An Appoinment

Appointment Scheduling Time: 9 AM - 10 PM

  1. Dhanmondi Diagnostic & Consultation Center
  2. Impulse Hospital
  3. Labaid Cancer Hospital
Arrow